|
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রধান ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পোগ্রাম হল h1b যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সারা বিশ্ব থেকে ৬৫০০০ দক্ষ প্রফেশনালকে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি প্রদান করে থাকে। এই ভিসায় একই সাথে স্ত্রী/স্বামী এবং সন্তানদের সাথে নিয়ে একজন প্রফেশনাল যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পায়। h1b ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার একটি নির্দিষ্ট সময় পর আবেদনকারী গ্রীনকার্ড বা স্থায়ী বসবাস (PR) -এর জন্য আবেদন করতে পারেন।
গত দশ বছরে h1b নিয়ে সবচেয়ে বেশী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য যায় আই.টি. প্রফেশনালরা; যার ৯৫% যোগানদাতা ইন্ডিয়া। তথ্যের অভিজ্ঞতার কারনে বাংলাদেশের আই.টি. প্রফেশনালরা এই বিষয়ে ভূল ধারনা পোষন করেন এবং বাংলাদেশ হতে প্রতি বছর যেই পরিমান h1b নিয়ে প্রফেশনাল যুক্তরাষ্ট্রে গমণ করেন তা কোনমতেই উল্লেখযোগ্য নয়। অথচ বাংলাদেশের আই.টি. প্রফেশনালরা খুব সহজেই এই ভিসা পেতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা আই.টি. প্রতিষ্ঠান গুলিতে কাজ করার যোগ্যতা রাখেন। h1b পেতে হলে নিম্নের দুটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। ১. আপনাকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে হবে যেই প্রতিষ্ঠান h1b স্পন্সর করার যোগ্যতা রাখে। ২. চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠান আপনার h1b ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইউ.এস. ইমিগ্রেশনে সম্পন্ন করবে। কোন ব্যাক্তি নিজের h1b নিজে স্পন্সর বা আবেদন করতে পারে না। নিম্নের ফিল্ড গুলিতে আপনি h1b এর জন্য আবেদন করতে পারবেন: তথ্যপ্রযুক্তি, ফিনান্স, একাউন্টিং, ব্যাংকিং, মার্কেটিং, এডভ্যার্টাইজিং, সেলস, ইন্জিনিয়ারিং(সকল বিষয়), শিক্ষাকতা, স্বাস্থ, আইন, টেলিকম, ব্যাবস্থাপনা। আগেই বলা হয়েছে আই.টি. তে সবচেয়ে বেশী h1b তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রফেশনালরা কাজ করতে যায়। সাধারণত বিষয়গুলিতে h1b নিয়ে থাকে তারাই যারা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষা নিতে যায়। কারা h1b ভিসার জন্য যোগ্যতা রাখেন: h1b এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিম্নের যে কোন একটি থাকতে হবে: ১. ৪ বছর মেয়াদী গ্রেজুয়েশন। অথবা ২. ৩ বছর মেয়াদী গ্রেজুয়েশন এবং মাষ্টার্স। অথবা ৩. ২ বছর মেয়াদী গ্রেজুয়েশন এবং ২ বছর মেয়াদী মাষ্টার্স। অথবা ৪. ১২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা। আপনার উচ্চ শিক্ষা যদি আপনি যেই বিষয়ে জন্য h1b পেতে ইচ্ছুক সেই বিষয়ের উপর না হয়ে থাকে অথবা উক্ত বিষয়ে আপনার যদি কোন কাজের অভিজ্ঞতা না থাকে তবে আপনার অবশ্যই উক্ত বিষয়ে কিছু সার্টিফিকেট/ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন থাকা জরুরী। আপনাকে h1b পেতে কি করতে হবে? ১. প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি প্রতিষ্ঠান খুজে বের করতে হবে যে আপনাকে চাকুরী দিবে। এই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অনেক জব সাইট আছে যেখানে আপনি চাকুরীর জন্য আবেদন করতে পারেন। আপনি যদি যথেষ্ঠ যোগ্য ব্যাক্তি না হন তবে এই সকল ওয়েব সাইট হতে চাকুরী পাওয়া আপনার জন্য কষ্টকর হবে। বাংলাদেশীদের জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হল জানুয়ারী এবং ফেব্রুয়ারীতে ইন্ডিয়ার ব্যাঙ্গালোরের সিলিকন ভ্যালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয় সেগুলিতে অংশ নেয়া। এটি যদি সম্ভব না হয় তবে জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারীর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে যেখানে আপনি খোজ নিতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন ইয়াহু এবং ফেইস বুক গ্রুপে আপনি বিভিন্ন রিক্রুটারের অফার গুলি পেতে পারেন। বাংলাদেশী ওয়েব সাইট AmaderVISA.Com -এর ফোরামের সদস্য হলে আপনি নিয়মিত বিভিন্ন রিক্রুটারের তথ্য ও চাকুরীর তথ্য আপনার ইমেইলে পাবেন। ২. চাকুরীদাতাই আপনার h1b ভিসা পিটিশনের যাবতীয় কাজ USCIS এ সম্পন্ন করবে। আবেদনকারীর কিছুই করতে হবে না। ৩. যখন h1b অনুমোদিত হবে তখন বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুতাবাস আপনার স্ত্রী এবং ২১ বছরের নিচের সন্তানদের জন্য h4 ভিসা অনুমোদন করবে। h1b মোট কোটা ১. প্রতি বছর মোট ৬৫০০০ জনের জন্য h1b ভিসা বরাদ্দ থাকে, তার মধে প্রায় ৬০০০০ পেয়ে থাকে ইন্ড়িয়ানরা। প্রতি বছর এপ্রিলে এই বরাদ্দ শুরু হয়। ২. আর অতিরিক্ত বিশ হাজার h1b ভিসা বরাদ্দ থাকে যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাষ্টার্স ডিগ্রী নিতে গিয়েছিল তাদের জন্য। ৩. পূর্বে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে h1b বরাদ্দ হত এবং এপ্রিলের ১ তারিখে এই কোটা শেষ হয়ে যেত মাইক্রোসফট - ইন্টেল এর মত অনেক বড় প্রতিষ্ঠানও অনেক সময় তাদের বিদেশী প্রফেশনালদের জন্য h1b পিটিশন করতে অপারগ হত। গত তিন বছর ধরে আগে আসলে আগে পাবেন -এর পরিবর্তে লটারী সিসটেমের প্রবর্তন হয়েছে এবং এপ্রিলের পহেলা তারিখ হতে ৭ তারখের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠান তাদের বিদেশী প্রফেশনালদের h1b পিটিশন ফাইল জমা দেয় এবং এপ্রিলের ৮ তারিখ লটারীর মাধ্যমে ৬৫০০০ জনের নাম ঘোষনা করা হয়। ২০০৮ এ প্রায় লক্ষাধিক ফাইল জমা পরেছিল কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দার কারনে ২০০৯ এ প্রায় ৪৫০০০ হাজারের কিছু বেশী ফাইল জমা পরে। কোটা ফিলআপ না হওয়ায় ২০০৯ এ কোন লটারী হয় নাই। ৪. যুক্তরাষ্ট্র হল ইমিগ্রেন্টদের দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার চায় সেখানে সকল জাতির ভারসাম্য অবস্থান। যার ফলে ড়ি.ভি. লটারীতে ভারতকে অনেক আগে বাদ দেয়া হয়েছে। ড়ি.ভি. সহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইনে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকারে দেয়া হয়। ড়ি.ভি. লটারীতে গত কয়েক বছর ধরে সবচেয়ে বেশী নেয়া হয় বাংলাদেশ হতে। ঠিক একই ভাবে h1b এর লটারীতে বাংলাদেশীদের সিলেক্ট হবার হার প্রায় ১০০% যেখানে ইন্ড়িয়ানদের হার অনেক নিচে। বাংলাদেশীদের h1b প্রপ্তির হার অনেক বেশী হওয়ায় আমেরিকান প্রতিষ্ঠান গুলি বাংলাদেশ হতে প্রফেশনাল নিতে বেশী আগ্রহী; যার ফলশ্রুতিতে ২০০৮-২০০৯ এ সবচেয়ে বেশী সংখ্যক প্রফেশনাল h1b নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করে। h1b এর জন্য কি পরিমান খরচ লাগে? প্রকৃত পক্ষে h1b জন্য আবেদনকারীকে কোন পয়সা দিতে হয় না। h1b এর জন্য প্রযোজনীয় আইনজিবী এবং সরকারী ফি চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠান বহন করে থাকে। এমনকি কোন কোন প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর বিমান ভাড়াও প্রদান করে থাকে। যারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জব ওয়ব সাইট বা অন্য কোন সরাসরি মাধ্যম ব্যাবহার করে চাকুরী পেয়েছেন তাদেরকে আসলে কোন খরচ বহন করতে হয় না। কিন্তু যারা কোন বিক্রুটারের মাধ্যমে h1b নিতে যাচ্ছে তাদেরকে এই আইনজিবী খরচ এবং সরকারী খরচ বহন করতে হয়; যা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে থাকে। এই খরচ চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানের বিশালতার উপর নির্ভর করে ১৫০০ হতে ৩৫০০ মার্কিন ড়লার হতে পারে। তবে ছোট প্রতিষ্ঠান হতে বড় প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমে h1b পাওয়া সহজ হয়ে থাকে। h1b এর উপর আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি ভিজিট করতে পারেন AmaderVISA.Com, uscis.gov, state.gov ওয়েব সাইট গুলীতে। AmaderVISA.Com সাইটটির ফোরামে আপনার প্রশ্ন লিথতে পারবেন অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন কনসালটেন্টরা তার উত্তর অবশ্যই দিবেন। |